
রোজা রাখলে কমবে ওজন-ডায়াবেটিস, আরও উপকারিতা
‘বিজ্ঞানীরা বলছেন, আপনি যদি সঠিক পদ্ধতিতে রোজা রাখতে পারেন, তাহলে অবশ্যই আপনার বাড়তি ওজন কমবে। বাড়তি ওজন ঝেড়ে ফেলে আপনি একজন স্লিম, স্মার্ট মানুষে রূপান্তরিত হবেন। আর যদি রোজার পরেও আপনার বাড়তি ওজন থেকে যায়, এইটুকু পরিষ্কারভাবে বলা যায়, যে পদ্ধতিতে রোজা রাখার কথা ছিল, সেই পদ্ধতিতে রোজা রাখতে পারেন নাই; রোজা রাখা হয় নাই। ফলে আপনি আপনার ওজন কমাতে ব্যর্থ হয়েছেন।’
আরও পড়ুন: রোজা রাখার বিস্ময়কর স্বাস্থ্য উপকারিতা
সিয়াম সাধনার মাস রমজানে ভোররাতে সেহরি খেয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানাহার বর্জন করেন মুসলিমরা। এ সময়ে পাকস্থলীসহ শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বিশ্রাম পায়। এতে করে শরীরে নানাবিধ ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে ও গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, রোজা একটি স্বাস্থ্যসম্মত বিষয়। রোজা রাখলে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক জটিলতা ও নানাবিধ কঠিন রোগ থেকে উপশম ঘটে।
আরও পড়ুন: রোজায় মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার কারন ও প্রতিকার
রোজা শুধু ধর্মীয় একটি বিষয় নয়, এর আছে শারীরিক ও মানসিক উপকারিতাও। রোজা রাখার বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে জানিয়েছেন চিকিৎসক তাসনিম জারা।
এক ভিডিও বার্তায় বিশিষ্ট চিকিৎসক তাসনিম জারা জানান, হাজার হাজার বছর ধরে রোজা রেখে আসলেও এটি স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ভালো নাকি খারাপ তা অনেকেরই ছিল না।
তবে গত ২০-৩০ বছরে এই নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। এই গবেষণায় রোজার অনেক বিস্ময়কর উপকারিতা জানা গিয়েছে। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক রোজার স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে-
আরও পড়ুন: রোজা রেখে মাথাব্যথা হলে যা করবেন
তারুণ্য ধরে রাখা ও রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়
ডা. তাসনিমা জানান, আমাদের শরীর কয়েক লাখ কোষ দিয়ে গঠিত। প্রতিটি কোষে বর্জ্য পদার্থের সৃষ্টি হয়। এই বর্জ্য কোষ নিজেই ‘অটোফেজি’ নামক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপসারণ ও আবার ব্যবহার উপযোগী করে তোলে। যা কোষকে সতেজ করে ও তারুণ্য ধরে রাখতে সহায়তা করে।
এই প্রক্রিয়া ঠিকভাবে না হওয়ার কারণে অ্যালজেইমার্স, পারকিনসনের মতো মস্তিষ্কের রোগ হতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। রোজা রাখলে অটোফেজি বেড়ে যায়। ফলে ত্বকের তারুণ্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগ থেকেও সুরক্ষা মেলে।
আরও পড়ুন: রোজায় গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সমাধানে যা করবেন
শরীরের অতিরিক্ত চর্বি ও ওজন কমে
এ বিষয়ে চিকিৎসক জানান, শরীরে আগে থেকে জমিয়ে রাখা এক প্রকার গ্লুকোজেন বা চিনি থাকে। রোজা রাখলে ১০-১২ ঘণ্টায় এটি সাধারণত শেষ হয়ে আসে।
তবে শরীর অটোমেটিক জমানো চর্বি পোড়াতে শুরু করে। একে মেটাবলিক সুইচ বলে। গবেষণায় দেখা গেছে, এর মাধ্যমে বেশ কয়েকটি উপকার হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
যেমন- এতে হার্ট ভালো থাকে, পেটের চর্বি কমে, রক্তচাপ কমে, রক্তে চিনির পরিমাণ কমে যায় এছাড়া আরও অনেক উপকার সাধিত হয়।
আরও পড়ুন: রোজা রেখে ওজন কমানোর উপায়
রমজানে ইফতারে ও সেহরিতে পুষ্টিকর খাবার খেয়ে সহজেই ওজন কমানো যায়। বিশেষ করে এ সময় ভাজাপোড়া, কার্বোহাইড্রেট ও মিষ্টিজাতীয় খাবার বাদ দিলেই কয়েক কেজি পর্যন্ত ওজন কমানো সম্ভব।
পেটের স্বাস্থ্য ভালো থাকে
আমাদের পেটের নাড়িভুড়িতে অনেক জীবাণুর বাস। যা রোগ প্রতিরোধবৃদ্ধিসহ নানাভাবে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। না খেয়ে থাকলে পেটে উপকারী জীবাণুর সংখ্যা বাড়ে।
রক্তে সুগারের মাত্রা থেকে বোঝা যায়, পরবর্তী সময়ে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কেমন। এটি নির্দিষ্ট পরিমাণের থেকে বেশি থাকলে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ডা. তাসনিম জানিয়ছেন, রোজা রাখলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।
আরও পড়ুন: কিডনি রোগীর খাবার তালিকা
রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে
আমাদের রক্তে একধরণের চর্বি থাকে যাকে কোলেস্টেরল বলে। কোলেস্টেরল বেশি পরিমাণে থাকলে রক্তনালিতে চর্বি জমে তা সরু হয়ে যেতে পারে। ফলে হার্ট অ্যাটাক-স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। রোজা রাখার মাধ্যমে রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকে
রোজার আগে ও পরে ব্লাড প্রেশার মেপে দেখা গেছে, যারা রোজা রেখেছেন তাদের ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে আছে। এক মাস রোজা রাখার এমন অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে। শুধু রমজানেই নয়, চাই সপ্তাহে ২-৩টি রোজা রাখার মাধ্যমেও শারীরিক এসব সুবিধা পেতে পারেন।